বিড়ালের কান অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তাদের শোনার ক্ষমতা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি তীক্ষ্ণ। তাই বিড়ালের কানের সুস্থতা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। আপনার আদরের বিড়ালটি যদি ঘন ঘন মাথা ঝাঁকায় কিংবা তার কান থেকে কালচে ময়লা ও তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়, তবে বুঝতে হবে সে কোনো না কোনো কানের সমস্যায় ভুগছে। সঠিক সময়ে এর যত্ন না নিলে বিড়ালের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। নিচে বিড়ালের কানের ইনফেকশনের প্রধান লক্ষণ, কারণ ও সমাধানগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
বিড়ালের কানের সমস্যার প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms):
বিড়ালের কানে ইনফেকশন বা পরজীবীর উপদ্বব হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়:
- ঘন ঘন মাথা ঝাঁকানো ও কান চুলকানো: বিড়াল কিছুক্ষণ পর পর তার মাথা অদ্ভুতভাবে ঝাঁকাতে থাকে এবং পা দিয়ে অনবরত কান চুলকায় বা মেঝেতে কান ঘষতে থাকে।
- কালো বা খয়েরী রঙের ময়লা (Ear Mites): কানের ভেতরে খয়েরী বা কালো রঙের গোলমরিচের গুঁড়ো অথবা কফি গ্রাউন্ডের মতো শুকনো বা চটচটে ময়লা জমা হওয়া। এটি মূলত কানের এক ধরণের পরজীবী বা ‘ইয়ার মাইট’-এর স্পষ্ট লক্ষণ।
- তীব্র দুর্গন্ধ ও তরল বের হওয়া: কানের কাছে মুখ নিলে টক বা পচা দুর্গন্ধ পাওয়া এবং কান থেকে হলুদ, সবুজ বা কালচে রঙের পুঁজ বা তরল মিশ্রিত পিচুটি বের হওয়া।
- কান লাল হওয়া ও ফুলে যাওয়া: কানের ভেতরের ত্বক অতিরিক্ত লালচে হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া এবং স্পর্শ করলে ব্যথায় মেউ মেউ করে ওঠা।
- মাথা একপাশে কাত করে রাখা: কানের ভেতরে তীব্র ইনফেকশন বা ভারসাম্য নষ্ট হলে বিড়াল তার মাথা রোগাক্রান্ত কানের দিকে কাত করে হাঁটাচলা করে।
কানের ময়লা ও দুর্গন্ধ দূর করার কার্যকরী সমাধান (Solutions):
বিড়ালের কানের অস্বস্তি কমাতে এবং ইনফেকশন দূর করতে আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন:
- কানের মাইট বা পরজীবী দূর করুন: বিড়ালের কানের ময়লা ও চুলকানির অন্যতম প্রধান কারণ হলো ইয়ার মাইট (Ear Mites)। ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী একটি ভালো মানের স্পট-অন ড্রপ (যেমন: Broadline বা Revolution) অথবা কানের অ্যান্টি-মাইট ড্রপ ব্যবহার করে এই পরজীবীগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব।
- কান পরিষ্কার করার সঠিক নিয়ম জানুন: বিড়ালের কান পরিষ্কার করার জন্য মানুষের কটন বাড (Q-tip) সরাসরি কানের গভীরে ভুলেও প্রবেশ করাবেন না। এতে ময়লা আরও ভেতরে চলে যায় এবং কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে। একটি তুলা বা নরম সুতি কাপড় হালকা কুসুম গরম পানিতে বা Cat Ear Cleaner-এ ভিজিয়ে কানের শুধু বাইরের দৃশ্যমান অংশটি আলতো করে মুছে পরিষ্কার করুন।
- ডাক্তারের পরামর্শে ড্রপ ব্যবহার করুন: কানের দুর্গন্ধ যদি ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে, তবে সাধারণ পরিষ্কারে তা ভালো হবে না। একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি ডাক্তার কানের ভেতরের ময়লা পরীক্ষা করে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ইয়ার ড্রপ দেবেন, যা নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে হবে।
- গোসলের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন: বিড়ালকে গোসল করানোর সময় বা মাথা মোছার সময় খেয়াল রাখুন যেন কোনোভাবেই কানের ভেতরে পানি না ঢোকে। কানের ভেতরে পানি জমে থাকলে সেখানে খুব দ্রুত ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করে এবং ইনফেকশন তৈরি হয়। গোসলের পর কানের চারপাশ ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
জরুরি সতর্কবার্তা: বিড়ালের কান থেকে যদি রক্ত বের হয়, কান থেকে তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ অনবরত ঝরতে থাকে কিংবা বিড়াল ব্যথায় কান একদম ছুঁতে না দেয়—তবে ঘরে কোনো ঘরোয়া টোটকা বা তেল ব্যবহারের চেষ্টা না করে তাত্ক্ষণিকভাবে তাকে একজন ভেটেরিনারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। কানের ভেতরের ইনফেকশন দ্রুত চিকিৎসা না করালে তা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।