বিড়ালের গা থেকে অল্প-স্বল্প লোম ঝরা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া, যাকে ‘শেডিং’ (Shedding) বলা হয়। কিন্তু আপনার আদরের বিড়ালটির গা থেকে যদি হুট করে অতিরিক্ত পরিমাণে লোম ঝরে পড়ে, সারা ঘর পশমে ভরে যায় কিংবা শরীরের কোনো অংশের পশম পুরোপুরি উঠে গিয়ে চামড়া ন্যাড়া হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়। বিড়ালের অতিরিক্ত লোম ঝরার পেছনে পুষ্টিহীনতা থেকে শুরু করে চর্মরোগ বা মানসিক চাপ পর্যন্ত থাকতে পারে। নিচে এর প্রধান লক্ষণ ও স্থায়ী সমাধানগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
অতিরিক্ত লোম ঝরার সাথে অন্যান্য যেসব লক্ষণ খেয়াল করবেন (Symptoms):
লোম ঝরাটা স্বাভাবিক নাকি কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ, তা বুঝতে নিচের উপসর্গগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখুন:
- প্যাচ বা গোল হয়ে পশম উঠে যাওয়া (Bald Patches): শরীরের কোনো নির্দিষ্ট জায়গা (যেমন- কান, পিঠ, পেট বা ক্যাপের অংশ) থেকে গোল হয়ে পশম উঠে গিয়ে চামড়া বের হয়ে যাওয়া।
- অনবরত শরীর চুলকানো বা কামড়ানো: লোম ঝরার পাশাপাশি বিড়াল যদি সারাদিন তার গা চুলকায়, নখ দিয়ে আঁচড়ায় বা দাঁত দিয়ে কামড়াতে থাকে।
- চামড়া লাল হওয়া বা খুশকি হওয়া: পশম উঠে যাওয়া জায়গার চামড়া অতিরিক্ত লালচে হয়ে যাওয়া, খুশকির মতো মরা চামড়া ওঠা কিংবা ছোট ছোট ঘা বা র্যাশ দেখা দেওয়া।
- ঘন ঘন হেয়ারবল (Hairball) বমি: গা চাটার সময় অতিরিক্ত আলগা পশম পেটে চলে যাওয়ার কারণে বিড়াল ঘন ঘন লোম বা হেয়ারবল বমি করে।
অতিরিক্ত লোম ঝরা বন্ধ করার কার্যকরী সমাধান (Solutions):
বিড়ালের গায়ের পশম সুন্দর, সিল্কি ও চকচকে রাখতে এবং অতিরিক্ত লোম ঝরা কমাতে আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:
- পুষ্টিকর খাবার ও ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড সরবরাহ করুন: নিম্নমানের ক্যাট ফুড বা খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব হলে বিড়ালের পশম দ্রুত ঝরে যায়। বিড়ালের পশমের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার বা সাপ্লিমেন্ট (যেমন- ভালো মানের সালমন ফিশ অয়েল) দিন। খাবারের তালিকায় প্রোটিন সমৃদ্ধ ভালো ড্রাই ও ওয়েট ফুড রাখুন।
- নিয়মিত পশম আঁচড়ে দিন (Brushing): প্রতিদিন অন্তত একবার একটি ভালো ক্যাট ব্রাশ বা চিরুনি দিয়ে বিড়ালের পশম আলতো করে আঁচড়ে দিন। এতে গায়ের আলগা বা মরা পশমগুলো ব্রাশে চলে আসবে, ফলে ঘরের মেঝেতে বা বিছানায় লোম ছড়াবে না। পাশাপাশি এটি বিড়ালের ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা নতুন পশম গজাতে সাহায্য করে।
- উকুন, ফ্লি ও পরজীবী দূর করুন: শরীরে উকুন, ফ্লি (Fleas) বা মাইটের উপদ্রব হলে বিড়াল প্রচণ্ড চুলকায়, যার ফলে চুলকানির চোটে প্রচুর পশম ঝরে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভালো মানের স্পট-অন ড্রপ ব্যবহার করে বিড়ালকে পরজীবী মুক্ত রাখুন।
- ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের চিকিৎসা: বিড়ালের রিংওয়ার্ম (Ringworm) বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে গোল গোল হয়ে পশম ঝরে পড়ে। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। এমন লক্ষণ দেখলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল শ্যাম্পু বা স্প্রে ব্যবহার করুন।
- মানসিক চাপ ও ভয় মুক্ত রাখুন: পরিবেশের হঠাৎ পরিবর্তন, ঘরের অতিরিক্ত কোলাহল কিংবা একাকীত্ব বিড়ালের স্ট্রেস বা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে প্রচুর লোম ঝরতে পারে। বিড়ালকে শান্ত পরিবেশ দিন এবং তার সাথে প্রতিদিন কিছুটা সময় খেলুন।
একটি জরুরি টিপস: বিড়ালকে ঘন ঘন গোসল করাবেন না। অতিরিক্ত গোসল করালে বিড়ালের ত্বকের স্বাভাবিক তেল শুকিয়ে যায়, যা ত্বককে রুক্ষ করে তোলে এবং লোম ঝরা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। মাসে সর্বোচ্চ একবার বা দুইবার মাইল্ড ক্যাট শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানোই যথেষ্ট।