বিড়ালের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। মানুষের মতো তাদেরও বিভিন্ন ধরণের ত্বকের সমস্যা বা চর্মরোগ হতে পারে। আপনার আদরের বিড়ালটি যদি হুট করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গা চুলকাতে শুরু করে, চামড়া কামড়ায় কিংবা পশম উঠে গিয়ে ক্ষত তৈরি হয়, তবে বিষয়টিকে মোটেও হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। সঠিক সময়ে যত্ন না নিলে চর্মরোগ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিচে বিড়ালের ত্বকের সমস্যার প্রধান লক্ষণ, কারণ এবং এর কার্যকরী সমাধানগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
বিড়ালের চর্মরোগ ও চুলকানির প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms):
বিড়ালের শরীরে কোনো ইনফেকশন বা অ্যালার্জি হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়:
- অনবরত শরীর চুলকানো বা কামড়ানো: বিড়াল নখ দিয়ে ঘাড়, কান বা পিঠের অংশ অতিরিক্ত চুলকায় অথবা দাঁত দিয়ে নিজের চামড়া কামড়াতে বা টানতে থাকে।
- চামড়া লাল হওয়া ও র্যাশ (Redness & Rashes): পশম উল্টে চামড়ার দিকে তাকালে ছোট ছোট লালচে দানা, ফুসকুড়ি বা চামড়া অতিরিক্ত লাল হয়ে থাকতে দেখা যায়।
- খুশকি বা মরা চামড়া ওঠা (Flaky Skin): বিড়ালের ত্বকে অতিরিক্ত শুষ্কতা দেখা দেওয়া এবং পশমের ওপর খুশকির মতো সাদা মরা চামড়া ভেসে ওঠা।
- গোল হয়ে পশম উঠে যাওয়া (Bald Patches): এটি মূলত রিংওয়ার্ম (Ringworm) বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের প্রধান লক্ষণ। শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় গোল গোল চাকার মতো পশম পুরোপুরি উঠে যায়।
- ক্ষত ও ক্রাস্ট বা খড়ি জমা (Sores & Scabs): অতিরিক্ত চুলকানির চোটে নখের আঁচড়ে চামড়া ছিলে যাওয়া, সেখান থেকে রস বা পুঁজ পড়া এবং পরে তা শুকিয়ে শক্ত খড়ি জমে যাওয়া।
বিড়ালের ত্বকের সমস্যা দূর করার কার্যকরী সমাধান (Solutions):
বিড়ালের চুলকানি কমাতে এবং তার ত্বক সুস্থ রাখতে আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন:
- ফ্লি ও উকুন দূর করুন (Parasite Control): বিড়ালের চুলকানির সবচেয়ে বড় কারণ হলো ফ্লি (Fleas), উকুন বা মাইট। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী একটি ভালো মানের স্পট-অন ড্রপ ব্যবহার করুন। এটি পরজীবী দূর করে চুলকানি দ্রুত কমিয়ে দেবে।
- মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন: বিড়ালের যদি ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়ে থাকে, তবে সাধারণ ক্যাট শ্যাম্পুর বদলে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বা মেডিকেটেড শ্যাম্পু (যেমন- Ketoconazole বা Chlorhexidine যুক্ত শ্যাম্পু) দিয়ে গোসল করান। শ্যাম্পু লাগানোর পর ১০ মিনিট রেখে তারপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। (মনে রাখবেন, বিড়ালকে মাসে ২ বারের বেশি গোসল করাবেন না)।
- খাদ্যতালিকায় ওমেগা ফিশ অয়েল যুক্ত করুন: ত্বকের শুষ্কতা এবং চুলকানি কমাতে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড দারুণ কাজ করে। বিড়ালের নিয়মিত খাবারের সাথে ভালো মানের সালমন ফিশ অয়েল (Salmon Fish Oil) মিশিয়ে দিন। এটি নতুন পশম গজাতে এবং ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।
- অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান থেকে দূরে রাখুন: ঘরের অতিরিক্ত ধুলাবালি, কড়া পারফিউম বা ফ্লোর ক্লিনার থেকে বিড়ালের স্কিন অ্যালার্জি হতে পারে। এছাড়া কিছু বিড়ালের নির্দিষ্ট ক্যাট ফুডে (যেমন চিকেন বা কর্ন) ফুড অ্যালার্জি থাকে। কোন খাবারে সমস্যা হচ্ছে তা চিহ্নিত করে খাবার পরিবর্তন করুন।
- ইনফেকশনযুক্ত জায়গা পরিষ্কার রাখুন: ক্ষত বা ফাঙ্গাস হওয়া স্থানটি হালকা কুসুম গরম পানিতে অ্যান্টিসেপটিক তরল (ভেটেরিনারি অনুমোদিত) মিশিয়ে তুলা দিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করে দিন।
অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা: মানুষের ব্যবহারের কোনো চুলকানির মলম, লোশন বা ডেটল/স্যাভলন সরাসরি বিড়ালের ত্বকে ভুলেও লাগাবেন না। বিড়ালের গা চাটার স্বভাব রয়েছে। ত্বকে লাগানো বিষাক্ত কেমিক্যাল বা মানুষের ওষুধ চাটলে তা তাদের পেটে গিয়ে মারাত্মক ফুড পয়জনিং বা লিভার ফেইলিউর হতে পারে। সমস্যা বেশি হলে বা চামড়া থেকে রক্ত/পুঁজ বের হলে দ্রুত একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।