বিড়ালের চোখ দিয়ে পানি বা পুঁজ পড়ার কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

0 minutes, 4 seconds Read

বিড়ালের চোখের সমস্যা খুবই সাধারণ একটি বিষয়, তবে এটিকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। আদরের বিড়ালের চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া কিংবা চোখ পিটপিট করা দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অনেক সময় চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ে, আবার কখনো কখনো তা ঘন হলুদ বা সবুজ রঙের পুঁজে রূপ নেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে বিড়ালের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। নিচে এর প্রধান লক্ষণ ও সমাধানগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

বিড়ালের চোখের সমস্যার প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms):

বিড়ালের চোখে কোনো ইনফেকশন বা আঘাত লাগলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:

  • অনবরত পানি বা পুঁজ পড়া: চোখ দিয়ে পরিষ্কার তরল বের হওয়া (সাধারণত অ্যালার্জি বা প্রাথমিক ঠাণ্ডার লক্ষণ)। আর যদি ঘন, চটচটে হলুদ বা সবুজ রঙের তরল বের হয়, তবে বুঝতে হবে এটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ।
  • চোখ লাল হওয়া ও ফুলে যাওয়া (Pink Eye): চোখের ভেতরের সাদা অংশ বা চারপাশ লালচে হয়ে ফুলে যাওয়া, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘কনজাংটিভাইটিস’ (Conjunctivitis) বলা হয়।
  • চোখ বন্ধ করে রাখা বা পিটপিট করা (Squinting): তীব্র আলোর দিকে তাকাতে না পারা, বারবার চোখ পিটপিট করা কিংবা এক চোখ পুরোপুরি বন্ধ করে রাখা। এটি সাধারণত চোখে কিছু ঢুকলে বা কর্নিয়ায় ক্ষত (Corneal Ulcer) হলে দেখা যায়।
  • তৃতীয় পলক বা পর্দা দেখা যাওয়া (Third Eyelid Visible): বিড়ালের চোখের কোণায় একটি সাদা বা হালকা গোলাপী রঙের পর্দা চলে আসে, যা চোখকে আংশিক ঢেকে ফেলে। বিড়াল অতিরিক্ত অসুস্থ বা দুর্বল হলে এটি ঘটে।

বিড়ালের চোখের ইনফেকশন দূর করার কার্যকরী সমাধান (Solutions):

বিড়ালের চোখের অস্বস্তি কমাতে এবং ইনফেকশন ছড়ানো বন্ধ করতে আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:

  1. কুসুম গরম পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করুন: একটি পরিষ্কার সুতি কাপড় বা কটন প্যাড হালকা কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে নিন। এরপর বিড়ালের চোখের ভেতরের কোণ থেকে বাইরের দিকে আলতো করে পুঁজ বা পিচুটি মুছে দিন। প্রতিবার মোছার জন্য নতুন ও পরিষ্কার কটন প্যাড ব্যবহার করুন, যেন এক চোখের ইনফেকশন অন্য চোখে না ছড়ায়।
  2. পরিবেশ ধূলিমুক্ত রাখুন: ঘরের অতিরিক্ত ধুলাবালি, পারফিউম, সিগারেটের ধোঁয়া বা কড়া ফ্লোর ক্লিনারের গন্ধ থেকে বিড়ালের চোখে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই বিড়াল যে ঘরে থাকে সেটি পরিষ্কার রাখুন। কম ধুলো ওড়ে এমন ভালো মানের লিটার বা বালি ব্যবহার করুন।
  3. আক্রান্ত বিড়ালকে আলাদা (Isolate) করুন: চোখের ইনফেকশন (বিশেষ করে ক্যাট ফ্লু বা কনজাংটিভাইটিস) অত্যন্ত সংক্রামক। ঘরে একাধিক বিড়াল থাকলে আক্রান্ত বিড়ালটিকে দ্রুত আলাদা করে ফেলুন, অন্যথায় বাকি বিড়ালগুলোও খুব দ্রুত আক্রান্ত হবে।
  4. নিজেদের মধ্যে মারামারি থেকে সাবধান: অনেক সময় একাধিক বিড়াল একসাথে থাকলে নখের আঁচড়ে চোখে ক্ষত হতে পারে। নখের কারণে কর্নিয়া ড্যামেজ হলে চোখ ঘোলাটে হয়ে যায়। এমন মনে হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।

সবচেয়ে জরুরি সতর্কবার্তা: মানুষের ব্যবহারের কোনো চোখের ড্রপ বা ড্রপ জাতীয় ওষুধ (যেমন: সিপ্রোসিন বা অন্য কোনো স্টেরয়েড ড্রপ) ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বিড়ালের চোখে ভুলেও দেবেন না। এটি বিড়ালকে চিরতরে অন্ধ করে দিতে পারে। চোখ যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভালো না হয়, চোখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় কিংবা চোখের মণি ঘোলাটে দেখায়, তবে আর দেরি না করে দ্রুত একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার পরীক্ষা করে বিড়ালের জন্য নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ বা অয়েন্টমেন্ট দেবেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0
    0
    Your Cart
    Your cart is emptyReturn to Shop