বিড়ালের নাক দিয়ে পানি পড়া বা হাঁচি হওয়া: কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

0 minutes, 4 seconds Read

মানুষের মতো বিড়ালেরও ঠাণ্ডা লাগা, অ্যালার্জি বা ফুসফুসের উপরিভাগের ইনফেকশন (Upper Respiratory Infection) হতে পারে, যা সাধারণত ‘ক্যাট ফ্লু’ (Cat Flu) নামে পরিচিত। বিড়াল যদি হুট করে ঘন ঘন হাঁচি দেওয়া শুরু করে কিংবা তার নাক দিয়ে পানি পড়ে, তবে এটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক সময়ে যত্ন না নিলে এটি সাধারণ ঠাণ্ডা থেকে মারাত্মক নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে। নিচে এর প্রধান লক্ষণ ও কার্যকারী সমাধানগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

বিড়ালের ঠাণ্ডা লাগা বা ফ্লু-এর প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms):

বিড়ালের হাঁচির সাথে আর কী কী সমস্যা হচ্ছে, তা ভালোভাবে বোঝার জন্য নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল করুন:

  • নাক ও চোখ দিয়ে তরল পড়া: প্রাথমিকভাবে নাক ও চোখ দিয়ে পরিষ্কার পানির মতো তরল বের হয়। সমস্যা বাড়লে এই তরল ঘন হয়ে হলুদ বা সবুজ রঙের পুঁজের মতো রূপ নিতে পারে।
  • ঘন ঘন হাঁচি ও কাশি: বিড়াল কিছুক্ষণ পর পর একটানা হাঁচি দিতে থাকে এবং মাঝেমধ্যে মানুষের মতো খকখক করে কাশে।
  • খাবারের প্রতি অরুচি: ঠাণ্ডা লাগলে বিড়ালের নাকের ঘ্রাণশক্তি কমে যায়। খাবারের সুগন্ধ না পাওয়ায় তারা খাবার খাওয়া একদম কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।
  • চোখ লাল হওয়া বা ফুলে যাওয়া: চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ার কারণে চোখের চারপাশ লাল হয়ে যায় এবং বিড়াল চোখ পিটপিট করে বা চোখ বন্ধ করে রাখতে চায়।
  • ঝিমুনি ও জ্বর: শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে বিড়াল সারাদিন এক জায়গায় ঝিমায় এবং তার শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

বিড়ালের হাঁচি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার কার্যকরী সমাধান (Solutions):

বিড়ালকে সুস্থ করে তুলতে এবং তার অস্বস্তি কমাতে আপনি ঘরে বসেই নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:

  1. নাক ও চোখ পরিষ্কার রাখুন: একটি নরম সুতি কাপড় বা কটন প্যাড হালকা কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে নিন। এরপর বিড়ালের নাক ও চোখের চারপাশের ময়লা বা তরল আলতো করে মুছে পরিষ্কার করে দিন। এতে তার শ্বাস নিতে সুবিধা হবে।
  2. স্টিম থেরাপি বা বাষ্প দিন: বিড়ালের নাকের বন্ধ ভাব দূর করতে স্টিম বা ভ্যাপার অত্যন্ত কার্যকরী। আপনি যখন গরম পানিতে গোসল করবেন, তখন বিড়ালটিকে বাথরুমে ১০-১৫ মিনিটের জন্য আপনার কাছে রাখতে পারেন (সরাসরি গরম পানির সংস্পর্শে আনবেন না)। গরম পানির বাষ্প বা বাথルームের আর্দ্রতা তার শ্বাসনালী পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।
  3. পরিবেশ অ্যালার্জি-মুক্ত রাখুন: তীব্র সুগন্ধি পারফিউম, ঘরের এয়ার ফ্রেশনার, সিগারেটের ধোঁয়া বা ঘরের অতিরিক্ত ধুলাবালি থেকে বিড়ালের ডাস্ট অ্যালার্জি হতে পারে। তাই বিড়াল যে ঘরে থাকে সেটি সবসময় পরিষ্কার ও ধূলিমুক্ত রাখুন এবং তার লিটার বক্সের বালি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
  4. আলাদা করে রাখুন (Isolation): ক্যাট ফ্লু অত্যন্ত সংক্রামক। আপনার ঘরে যদি একাধিক বিড়াল থাকে, তবে আক্রান্ত বিড়ালটিকে দ্রুত অন্য বিড়ালদের থেকে আলাদা ঘরে রাখুন। তা না হলে অন্য বিড়ালগুলোও দ্রুত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবে।
  5. সুগন্ধি ও নরম খাবার দিন: যেহেতু বিড়াল এই সময়ে ঘ্রাণ পায় না, তাই তাকে সাধারণ ড্রাই ফুডের বদলে তীব্র গন্ধযুক্ত ওয়েট ফুড (Wet Food) বা হালকা গরম চিকেন স্যুপ দিন। খাবার সামান্য গরম করে দিলে বিড়াল গন্ধ পায় এবং খেতে আগ্রহী হয়।

বিশেষ সতর্কতা: বিড়ালের নাক বন্ধ থাকার কারণে সে যদি মুখ দিয়ে হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে শ্বাস নেয়, নাক দিয়ে অতিরিক্ত পুঁজ বা রক্ত আসে, তবে ঘরোয়া চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত একজন ভেটেরিনারি ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। মানুষের ঠাণ্ডার কোনো ওষুধ (যেমন: হিস্টাসিন, এন্টিহিস্টামিন বা কোনো ড্রপ) ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বিড়ালকে কখনোই দেবেন না।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0
    0
    Your Cart
    Your cart is emptyReturn to Shop