বিড়ালের প্রস্রাব করতে কষ্ট হওয়ার প্রধান লক্ষণ, কারণ ও জরুরি করণীয়

0 minutes, 6 seconds Read

বিড়াল পোষার ক্ষেত্রে যে কয়েকটি রোগকে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক এবং ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’ বা জরুরি অবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রস্রাবের সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে FLUTD (Feline Lower Urinary Tract Disease) বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) বলা হয়। বিশেষ করে পুরুষ বিড়ালের (Male Cat) ক্ষেত্রে এই সমস্যা খুব দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। আপনার আদরের বিড়ালটির প্রস্রাব করতে কষ্ট হচ্ছে কিনা এবং এই অবস্থায় আপনার কী করা উচিত, তা বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।

বিড়ালের প্রস্রাবের সমস্যার প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms):

বিড়ালের মূত্রথলিতে ইনফেকশন, পাথর বা ব্লক হলে তার আচরণে নিচের পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

  • বারবার লিটার বক্সে যাওয়া: বিড়াল কিছু সময় পর পর লিটার বক্সে যায়, প্রস্রাব করার পজিশন নেয়, কিন্তু প্রস্রাব হয় না অথবা মাত্র কয়েক ফোঁটা পড়ে।
  • ব্যথায় চিৎকার করা বা কান্না করা: প্রস্রাব করার সময় প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হওয়ার কারণে বিড়াল লিটার বক্সে বসে বা অন্য কোথাও প্রস্রাব করার সময় ব্যথায় মেউ মেউ করে কাঁদে।
  • প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসা (Hematuria): বিড়ালের প্রস্রাবের রঙ স্বাভাবিকের চেয়ে লালচে বা গোলাপী দেখায়, যা মূত্রথলিতে ক্ষত বা ইনফেকশনের স্পষ্ট লক্ষণ।
  • লিটার বক্সের বাইরে প্রস্রাব করা: বিড়াল অনেক সময় লিটার বক্সকে ব্যথার কারণ মনে করে বিছানা, সোফা, কার্পেট বা ঘরের কোণায় প্রস্রাব করা শুরু করে।
  • প্রস্রাবের রাস্তা অনবরত চাটা: অস্বস্তি ও ব্যথা কমানোর জন্য বিড়াল বারবার তার পেছনের যৌনাঙ্গ বা প্রস্রাবের রাস্তা চাটতে থাকে।
  • পেট শক্ত হওয়া এবং অলসতা: প্রস্রাব জমে পেট ফুলে শক্ত হয়ে যায়। বিড়াল প্রচণ্ড ব্যথায় ছটফট করে অথবা এক কোনায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকে।

প্রস্রাবের কষ্ট দূর করার কার্যকরী সমাধান ও করণীয় (Solutions):

বিড়ালের প্রস্রাবের সমস্যা প্রতিরোধে এবং প্রাথমিক অবস্থায় আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:

  1. ভিজে বা ওয়েট ফুডের (Wet Food) পরিমাণ বাড়ান: বিড়ালের প্রস্রাবে পাথর বা ক্রিস্টাল জমার প্রধান কারণ হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং অতিরিক্ত ড্রাই ফুড খাওয়া। তাই ড্রাই ফুড কমিয়ে মেন্যুতে ওয়েট ফুড, ক্যাট ক্যান বা ঘরে তৈরি লবণ ছাড়া চিকেন সুপ যুক্ত করুন।
  2. পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা: ঘরের ৩-৪টি ভিন্ন জায়গায় সবসময় পরিষ্কার ও ফ্রেশ পানি রাখুন। বিড়াল চলন্ত পানি পছন্দ করে, তাই সম্ভব হলে একটি Water Fountain ব্যবহার করতে পারেন, যা তাকে বেশি পানি পানে উৎসাহিত করবে।
  3. লিটার বক্স সবসময় পরিষ্কার রাখুন: বিড়াল নোংরা লিটার বক্স পছন্দ করে না। বক্স নোংরা থাকলে তারা দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখে, যা থেকে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (UTI) তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে লিটার বক্সের ময়লা পরিষ্কার করুন।
  4. মানসিক চাপ বা স্ট্রেস মুক্ত রাখা: বিড়ালের মূত্রথলির প্রদাহ বা সিস্টাইটিস (Cystitis) হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো মানসিক চাপ। ঘরের পরিবেশ শান্ত রাখুন এবং তাকে পর্যাপ্ত নিরাপদ স্থান দিন।

সবচেয়ে জরুরি সতর্কবার্তা (পুরুষ বিড়ালের মালিকদের জন্য): আপনার পুরুষ বিড়ালটি যদি একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মোটেও প্রস্রাব না করে, তবে ধরে নিতে হবে তার প্রস্রাবের রাস্তা পুরোপুরি ব্লক (Urethral Obstruction) হয়ে গেছে। এটি একটি চরম জরুরি অবস্থা! প্রস্রাব আটকে থাকার কারণে শরীর টক্সিক বা বিষাক্ত হয়ে পড়ে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিডনি ফেইলিউর হয়ে বিড়ালের মৃত্যু হতে পারে। এই অবস্থায় কোনো ঘরোয়া চিকিৎসা বা ওষুধের জন্য অপেক্ষা না করে তাত্ক্ষণিকভাবে তাকে কোনো ভেটেরিনারি হসপিটালে নিয়ে যান এবং ক্যাথেটার করার ব্যবস্থা করুন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0
    0
    Your Cart
    Your cart is emptyReturn to Shop