বিড়াল স্বভাবগতভাবেই খাবারের ব্যাপারে একটু চূজি বা খামখেয়ালী হতে পারে। কিন্তু আপনার আদরের বিড়ালটি যদি হঠাৎ করেই তার নিয়মিত খাবার খাওয়া একদম বন্ধ করে দেয় বা খাবারে চরম অরুচি দেখায়, তবে সেটি বেশ চিন্তার বিষয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বিড়ালের এই খাওয়া বন্ধ করে দেওয়াকে ‘অ্যানোরেক্সিয়া’ (Anorexia) বলা হয়। এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নাও হতে পারে। নিচে বিড়ালের হঠাৎ অরুচি হওয়ার কারণ, অন্যান্য লক্ষণ এবং এর সঠিক সমাধানগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
বিড়ালের অরুচির সাথে অন্যান্য যেসব লক্ষণ খেয়াল করবেন (Symptoms):
বিড়াল শুধু খাবার খাচ্ছে না নাকি সাথে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও আছে, তা বুঝতে নিচের উপসর্গগুলোর দিকে নজর দিন:
- ঝিমুনি ও অলসতা: বিড়াল খাবার না খেয়ে সারাদিন এক কোনায় ঝিম মেরে বসে থাকে এবং আগের মতো চঞ্চলতা দেখায় না।
- লুকিয়ে থাকার প্রবণতা: অসুস্থ বোধ করলে বা শরীরে প্রচণ্ড অস্বস্তি হলে বিড়াল খাটের নিচে, আলমারির আড়ালে বা অন্ধকার জায়গায় লুকিয়ে থাকে।
- মুখ দিয়ে লালা পড়া বা খাবার ফেলে দেওয়া: খাবার মুখে নিয়েও চিবোতে না পেরে ফেলে দেওয়া বা মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়া। এটি সাধারণত দাঁতে ব্যথা, মাড়ির ইনফেকশন বা মুখে ঘা হওয়ার লক্ষণ।
- বমি বা পেটের সমস্যা: খাবারের প্রতি অরুচির পাশাপাশি ঘন ঘন বমি করা, পাতলা পায়খানা হওয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেওয়া।
খাবারে হঠাৎ অরুচি হওয়ার কারণ ও তার সমাধান (Solutions):
বিড়ালের এই হঠাৎ অরুচি দূর করতে এবং তাকে আবার খাবারের টেবিলে ফিরিয়ে আনতে আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:
- শারীরিক অসুস্থতা ও ভেট চেকআপ: হঠাৎ খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে অভ্যন্তরীণ কোনো রোগ (যেমন: জ্বর, কৃমির উপদ্রব, কিডনি বা লিভারের সমস্যা)। যদি বিড়াল ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কিছুই না খায়, তবে কোনো ঘরোয়া টোটকার আশা না করে দ্রুত একজন ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- মানসিক চাপ বা পরিবেশের পরিবর্তন: বিড়াল পরিবেশের পরিবর্তন খুব দ্রুত টের পায়। ঘরে নতুন কোনো পোষা প্রাণী আসা, বাড়ি বদল করা, আসবাবপত্রের স্থান পরিবর্তন কিংবা চারপাশে অতিরিক্ত কোলাহল হলে বিড়াল স্ট্রেস বা মানসিক চাপে ভোগে এবং খাওয়া বন্ধ করে দেয়। এই অবস্থায় তাকে একটি শান্ত, নিরাপদ পরিবেশ দিন এবং কিছুটা বাড়তি সময় দিন।
- খাবারের ধরন বা ব্র্যান্ড পরিবর্তন: হুট করে বিড়ালের নিয়মিত ড্রাই ফুড বা ওয়েট ফুডের ব্র্যান্ড বদলে ফেললে তারা নতুন খাবার খেতে চায় না। যেকোনো নতুন খাবার অভ্যস্ত করাতে আগের খাবারের সাথে অল্প অল্প করে মিশিয়ে ৭-১০ দিন সময় নিয়ে পরিবর্তন করুন। এছাড়া প্রতিদিন একই খাবার খেতে খেতে বোর হয়ে গেলেও অরুচি হতে পারে, সেক্ষেত্রে খাবারের মেন্যুতে ভিন্নতা আনুন।
- খাবারের গন্ধ ও তাপমাত্রা বাড়ানো: বিড়াল মূলত খাবারের ঘ্রাণ শুঁকে খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঠাণ্ডা লাগার কারণে নাক বন্ধ থাকলে বা খাবারের তীব্র সুগন্ধ না থাকলে তারা খেতে চায় না। তাই ড্রাই ফুডের ওপর সামান্য কুসুম গরম পানি বা টুনা মাছের সুপ ছড়িয়ে দিতে পারেন। খাবার হালকা গরম করে দিলে তার গন্ধ তীব্র হয় এবং বিড়াল খেতে আকৃষ্ট হয়।
- খাবারের পাত্রের পরিচ্ছন্নতা ও স্থান: বিড়ালের খাবারের পাত্রে আগের বাসি খাবারের গন্ধ থাকলে তারা সেখানে মুখ দেয় না। তাই প্রতিবার খাবার দেওয়ার আগে পাত্রটি ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এছাড়া পাত্রটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে বিড়াল কোনো ভয় বা ডিস্টার্ব ছাড়া শান্তিতে খেতে পারে (যেমন: তাদের লিটার বক্স বা টয়লেটের কাছাকাছি খাবারের পাত্র একদম রাখবেন না)।
অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা: একটি বিড়াল যদি একটানা ২ দিনের বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ না খেয়ে থাকে, তবে তার লিভারে ‘হেপাটিক লিপিডোসিস’ (Hepatic Lipidosis) বা ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হতে পারে, যা অত্যন্ত প্রাণঘাতী। তাই বিড়ালের অরুচিকে হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।