বিড়াল ছানাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মানুষের মতো শক্তিশালী হয় না। বিশেষ করে মায়ের দুধ খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার পর তারা মারাত্মক কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিড়ালের কিছু রোগ (যেমন: প্যানলিউকোপেনিয়া বা জলাতঙ্ক) এতটাই মারাত্মক যে এগুলোতে আক্রান্ত হলে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর এই মারাত্মক রোগগুলো থেকে আপনার আদরের বিড়ালকে সুরক্ষিত রাখার একমাত্র উপায় হলো সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন বা টিকা দেওয়া। নিচে বিড়ালের ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তা এবং এর সঠিক সময়সূচী বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ভ্যাকসিন কেন জরুরি এবং না দিলে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
বিড়ালকে সময়মতো ভ্যাকসিন না দিলে তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না। ফলে ক্যাট ফ্লু বা প্যানলিউকোপেনিয়ার মতো ভাইরাসে আক্রান্ত হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়:
- অতিরিক্ত বমি ও রক্তাক্ত ডায়রিয়া: এটি মূলত পারভো বা প্যানলিউকোপেনিয়া ভাইরাসের প্রধান লক্ষণ, যা ভ্যাকসিনেটেড না থাকা বিড়াল ছানাদের দ্রুত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
- তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট: শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন বা ক্যাট ফ্লু-এর কারণে বিড়ালের তীব্র জ্বর, অনবরত হাঁচি এবং নাক-চোখ দিয়ে পুঁজ পড়তে পারে।
- লালা পড়া ও আচরণে অস্বাভাবিকতা: বিড়াল যদি জলাতঙ্ক (Rabies) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তবে সে প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, মুখ দিয়ে লালা পড়ে এবং পানি দেখে ভয় পায়। মনে রাখবেন, জলাতঙ্ক একটি জোনোটিক রোগ, যা বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরেও ছড়াতে পারে।
বিড়ালের ভ্যাকসিনের সঠিক সময়সূচী (Vaccination Schedule):
বিড়ালের বয়স এবং ভ্যাকসিনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে নিচে একটি আদর্শ চার্ট দেওয়া হলো, যা প্রতিটি বিড়ালের জন্য অনুসরণ করা উচিত:
- প্রথম ডোজ (Core Vaccine / FVRCP): বিড়ালের বয়স যখন ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ (প্রায় ২ মাস) হয়, তখন তাকে প্রথম কোর ভ্যাকসিন দিতে হয়। এই একটি ভ্যাকসিনের মাধ্যমেই বিড়াল ৩টি মারাত্মক রোগ (Rhinotracheitis, Calicivirus, Panleukopenia) থেকে সুরক্ষা পায়। এটি সাধারণত ‘3-in-1’ বা ‘4-in-1’ ভ্যাকসিন নামে পরিচিত।
- দ্বিতীয় ডোজ বা প্রথম বুস্টার: প্রথম ভ্যাকসিন দেওয়ার ঠিক ২১ থেকে ২৮ দিন (৩ থেকে ৪ সপ্তাহ) পর দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ দিতে হবে। সাধারণত বিড়ালের বয়স তখন ১১-১২ সপ্তাহ হয়।
- তৃতীয় ডোজ বা দ্বিতীয় বুস্টার: দ্বিতীয় ডোজের ঠিক ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর (বিড়ালের বয়স যখন ১৪-১৬ সপ্তাহ) তৃতীয় বুস্টার ডোজটি দিতে হয়। বিড়াল ছানার শতভাগ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করতে এই তিনটি প্রাথমিক ডোজ খুবই জরুরি।
- জলাতঙ্ক বা র্যাবিস ভ্যাকসিন (Rabies Vaccine): বিড়ালের বয়স ৩ মাস (১২ সপ্তাহ) পার হওয়ার পর যেকোনো সময় জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া যায়। সাধারণত এটি দ্বিতীয় বা তৃতীয় বুস্টার ডোজের সাথে দেওয়া হয়ে থাকে।
- বাৎসরিক বুস্টার ডোজ (Annual Booster): প্রাথমিক কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর, বিড়াল যতদিন বেঁচে থাকবে—প্রতি বছর ঠিক একই সময়ে (বছরে একবার) FVRCP এবং Rabies ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিয়মিত দিতে হবে।
ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে জরুরি সতর্কবার্তা:
- বিড়াল সম্পূর্ণ সুস্থ না থাকলে (যেমন: জ্বর, বমি, ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত কৃমি থাকলে) কোনো অবস্থাতেই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। অসুস্থ শরীরে ভ্যাকসিন দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
- ভ্যাকসিন দেওয়ার পর ১-২ দিন বিড়াল কিছুটা ঝিমিয়ে থাকতে পারে বা হালকা জ্বর আসতে পারে, যা স্বাভাবিক। তবে সমস্যা বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি ডাক্তারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেওয়াবেন এবং একটি নির্দিষ্ট ‘ভ্যাকসিন কার্ড’ মেইনটেইন করবেন, যেখানে পরবর্তী ভ্যাকসিনের তারিখ লেখা থাকবে।