বিড়ালকে কৃমির ওষুধ কতদিন পর পর দেবেন? জেনে নিন সঠিক সময় ও লক্ষণ

0 minutes, 5 seconds Read

বিড়াল পোষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবাগুলোর একটি হলো নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়ানো বা ডিওয়ার্মিং (Deworming) করা। বিড়াল খুব সহজেই তাদের মায়েদের দুধ থেকে, ঘরের মেঝে, জুতা-স্যান্ডেল কিংবা ফ্লি বা উকুনের মাধ্যমে কৃমিতে আক্রান্ত হতে পারে। পেটে অতিরিক্ত কৃমি হলে বিড়ালের পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই বিড়ালকে সুস্থ রাখতে কতদিন পর পর কৃমির ওষুধ দিতে হবে এবং এর লক্ষণগুলো কী কী, তা বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো।

বিড়ালের পেটে কৃমি হওয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms):

বিড়ালের পেটে অতিরিক্ত কৃমি হলে শরীরে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়:

  • পেট অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া: বিড়ালের শরীর শুকিয়ে গেলেও পেটটি গোল বা কলসীর মতো ফুলে থাকে (পোট বেলি)। এটি কৃমি থাকার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।
  • পশম উসকোখুসকো ও রুক্ষ হওয়া: কৃমি বিড়ালের শরীরের সব পুষ্টি শুষে নেয়। ফলে বিড়ালের গায়ের পশম উজ্জ্বলতা হারায়, রুক্ষ হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত পশম ঝরতে থাকে।
  • বমি বা ডায়রিয়া হওয়া: ঘন ঘন পেট খারাপ হওয়া, পাতলা পায়খানা বা বমি হওয়া। অনেক সময় মারাত্মক ইনফেকশন হলে বমি বা মলের সাথে আস্ত সাদা সুতার মতো কৃমি বের হতে দেখা যায়।
  • অতিরিক্ত ক্ষুধা বা একদম অরুচি: কিছু বিড়াল পেটে কৃমি থাকলে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ খাবার খায়, কিন্তু তার ওজন বাড়ে না। আবার কিছু বিড়ালের ক্ষেত্রে খাবার প্রতি চরম অরুচি দেখা দেয়।
  • মলদ্বার মেঝেতে ঘষা (Scooting): কৃমির কারণে মলদ্বারে চুলকানি হলে বিড়াল অনেক সময় মেঝেতে বা কার্পেটে তার পেছনের অংশ ঘষতে থাকে।

বিড়ালের কৃমির ওষুধ দেওয়ার সঠিক সময়সূচী (Deworming Schedule):

বিড়ালের বয়স ও জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে কৃমির ওষুধ দেওয়ার নিয়ম আলাদা হয়ে থাকে। নিচে একটি আদর্শ সময়সূচী দেওয়া হলো:

  1. বিড়াল ছানার ক্ষেত্রে (Kittens): ছোট বিড়াল ছানাদের কৃমিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
    • বয়স ২ সপ্তাহ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত: প্রতি ২ সপ্তাহ পর পর কৃমির ওষুধ দিতে হবে।
    • বয়স ২ মাস থেকে ৬ মাস পর্যন্ত: প্রতি ১ মাস পর পর (মাসে একবার) ওষুধ দিতে হবে।
  2. পূর্ণবয়স্ক বিড়ালের ক্ষেত্রে (Adult Cats – ৬ মাসের বেশি): বিড়ালের বয়স ৬ মাস পার হয়ে গেলে সাধারণত প্রতি ৩ মাস পর পর (বছরে ৪ বার) নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হয়। তবে আপনার বিড়াল যদি ঘরের বাইরে যায় বা কাঁচা মাংস খায়, তবে ডাক্তারের পরামর্শে ২ মাস পর পরও দেওয়া লাগতে পারে।
  3. মা বিড়ালের ক্ষেত্রে (Pregnant/Lactating Cats): মা বিড়াল গর্ভবতী হওয়ার আগে এবং বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর বিড়াল ছানার বয়স যখন ২ সপ্তাহ হবে, তখন মায়েরও ডিওয়ার্মিং করা উচিত। তবে গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া যাবে না।

জরুরি কিছু সতর্কতা:

  • মানুষের খাওয়ার কৃমির ওষুধ (যেমন: Zentel, Solbrin) বিড়ালকে কখনোই দেবেন না। বিড়ালের জন্য নির্দিষ্ট ভেটেরিনারি কৃমির ওষুধ (যেমন: Mebex, Droontal) ব্যবহার করতে হবে।
  • কৃমির ওষুধের ডোজ সম্পূর্ণ নির্ভর করে বিড়ালের সঠিক ওজনের (Weight) ওপর। তাই ওষুধ খাওয়ানোর আগে অবশ্যই বিড়ালের ওজন মেপে নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ডোজ খাওয়ান। কম বা বেশি ডোজ বিড়ালের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
  • বিড়াল অসুস্থ থাকলে, জ্বর বা বমি হলে ওই অবস্থায় কৃমির ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। বিড়াল সম্পূর্ণ সুস্থ হলে তবেই ডিওয়ার্মিং করুন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0
    0
    Your Cart
    Your cart is emptyReturn to Shop