বিড়ালের জ্বর হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন? জেনে নিন প্রধান লক্ষণ ও সমাধান

0 minutes, 3 seconds Read

মানুষের মতো বিড়ালেরও জ্বর হতে পারে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘পাইরেক্সিয়া’ (Pyrexia) বলা হয়। তবে বিড়ালের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা মানুষের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে (সাধারণত ১০০.৫° থেকে ১০২.৫° ফারেনহাইট)। তাই শুধু গা ছুঁয়ে বিড়ালের জ্বর সঠিকভাবে নিশ্চিত করা কঠিন। আপনার আদরের বিড়ালটি জ্বরে ভুগছে কিনা এবং এই অবস্থায় আপনার কী করা উচিত, তা বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।

বিড়ালের জ্বর হওয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms):

বিড়ালের শরীরে কোনো ইনফেকশন বা রোগ বাসা বাঁধলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জ্বরের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। নিচে সাধারণ কিছু লক্ষণ দেওয়া হলো যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন বিড়ালটি জ্বরে আক্রান্ত:

  • অতিরিক্ত গরম কান ও থাবা: বিড়ালের কান, পেটের নিচের অংশ এবং পায়ের থাবা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি গরম মনে হওয়া। তবে মনে রাখবেন, বিড়ালের নাক শুকনা বা ভেজা থাকা জ্বরের শতভাগ সঠিক প্রমাণ নয়।
  • খাবার ও পানি না খাওয়া: জ্বর আসলে বিড়ালের মুখের স্বাদ চলে যায়। সে তার প্রিয় খাবার বা পানি খাওয়া একদম কমিয়ে দেয় বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
  • তীব্র ঝিমুনি ও অলসতা (Lethargy): বিড়াল সারাদিন কোনো এক কোনায় অলসভাবে পড়ে থাকে। ডাকলে সাড়া দেয় না এবং তার পছন্দের খেলনা নিয়ে খেলার কোনো আগ্রহ দেখায় না।
  • ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া ও কাঁপুনি: জ্বরের তীব্রতা বেশি হলে বিড়াল দ্রুত বুক ফুলিয়ে শ্বাস নেয় এবং শরীর কাঁপতে পারে।
  • নিজেকে পরিষ্কার না করা (Lack of Grooming): সুস্থ বিড়াল সারাদিন নিজেকে চেটে পরিষ্কার রাখে। কিন্তু জ্বর হলে বিড়ালের পশম উসকোখুসকো ও অপরিচ্ছন্ন দেখায়।

বিড়ালের জ্বর হলে করণীয় ও সমাধান (Solutions):

বিড়ালের জ্বর বুঝতে পারলে ঘরে বসে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:

  1. তাপমাত্রা পরিমাপ করুন (সম্ভব হলে): বিড়ালের জ্বর নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় হলো ডিজিটাল থার্মোমিটার দিয়ে তার মলদ্বারের (Rectal) তাপমাত্রা মাপা। তাপমাত্রা যদি ১০৩° ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়, তবে বুঝতে হবে তার জ্বর আছে। (যদি আপনি এটি করতে ভয় পান, তবে জোর করবেন না)।
  2. শরীর ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা করুন: বিড়ালকে একটি ঠাণ্ডা, বাতাস চলাচল করে এমন শান্ত ঘরে রাখুন। একটি সুতি কাপড় হালকা কুসুম গরম বা সাধারণ পানিতে ভিজিয়ে তা ভালোভাবে নিংড়ে নিন। এরপর বিড়ালের কান, পেট এবং থাবার নিচে আলতো করে মুছে দিন। ভুলেও বিড়ালকে সরাসরি ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করাবেন না।
  3. শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রাখুন: জ্বরের কারণে বিড়ালের শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই তার সামনে সবসময় পরিষ্কার পানি রাখুন। সে নিজে না খেতে চাইলে ড্রপার বা সিরিঞ্জের সাহায্যে অল্প অল্প করে পানি বা ডাবের পানি খাওয়াতে পারেন।
  4. সহজে হজম হয় এমন খাবার দিন: এই সময়ে বিড়ালকে জোর করে ড্রাই ফুড দেবেন না। তাকে হালকা গরম চিকেন স্যুপ বা নরম ওয়েট ফুড দিন, যা সে সহজেই গিলতে পারে।

অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা: নিজের বুদ্ধিতে বা মানুষের ওষুধ মনে করে বিড়ালকে কখনোই প্যারাসিটামল (যেমন: Napa, Ace) বা কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়াবেন না। প্যারাসিটামল বিড়ালের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত (Toxic) এবং এটি খাওয়ানোর ফলে বিড়ালের লিভার অকেজো হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। জ্বর ২৪ ঘণ্টার বেশি থাকলে কিংবা বিড়াল অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0
    0
    Your Cart
    Your cart is emptyReturn to Shop