বিড়ালের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। মানুষের মতো তাদেরও বিভিন্ন ধরণের ত্বকের সমস্যা বা চর্মরোগ হতে পারে। আপনার আদরের বিড়ালটি যদি হুট করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গা চুলকাতে শুরু করে, চামড়া কামড়ায় কিংবা পশম উঠে গিয়ে ক্ষত তৈরি হয়, তবে বিষয়টিকে মোটেও হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। সঠিক সময়ে যত্ন না নিলে চর্মরোগ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিচে বিড়ালের ত্বকের সমস্যার প্রধান লক্ষণ, কারণ এবং এর কার্যকরী সমাধানগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: বিড়ালের চর্মরোগ ও চুলকানির প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms): বিড়ালের শরীরে কোনো ইনফেকশন বা অ্যালার্জি হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়: বিড়ালের ত্বকের সমস্যা দূর করার কার্যকরী সমাধান (Solutions): বিড়ালের চুলকানি কমাতে এবং তার ত্বক সুস্থ রাখতে আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন: অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা: মানুষের ব্যবহারের কোনো চুলকানির মলম, লোশন বা ডেটল/স্যাভলন সরাসরি বিড়ালের ত্বকে ভুলেও লাগাবেন না। বিড়ালের গা চাটার স্বভাব রয়েছে। ত্বকে লাগানো বিষাক্ত কেমিক্যাল বা মানুষের ওষুধ চাটলে তা তাদের পেটে গিয়ে মারাত্মক ফুড পয়জনিং বা লিভার ফেইলিউর হতে পারে। সমস্যা বেশি হলে বা চামড়া থেকে রক্ত/পুঁজ বের হলে দ্রুত একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
বিড়ালের গা থেকে অল্প-স্বল্প লোম ঝরা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া, যাকে ‘শেডিং’ (Shedding) বলা হয়। কিন্তু আপনার আদরের বিড়ালটির গা থেকে যদি হুট করে অতিরিক্ত পরিমাণে লোম ঝরে পড়ে, সারা ঘর পশমে ভরে যায় কিংবা শরীরের কোনো অংশের পশম পুরোপুরি উঠে গিয়ে চামড়া ন্যাড়া হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়। বিড়ালের অতিরিক্ত লোম ঝরার পেছনে পুষ্টিহীনতা থেকে শুরু করে চর্মরোগ বা মানসিক চাপ পর্যন্ত থাকতে পারে। নিচে এর প্রধান লক্ষণ ও স্থায়ী সমাধানগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: অতিরিক্ত লোম ঝরার সাথে অন্যান্য যেসব লক্ষণ খেয়াল করবেন (Symptoms): লোম ঝরাটা স্বাভাবিক নাকি কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ, তা বুঝতে নিচের উপসর্গগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখুন: অতিরিক্ত লোম ঝরা বন্ধ করার কার্যকরী সমাধান (Solutions): বিড়ালের গায়ের পশম সুন্দর, সিল্কি ও চকচকে রাখতে এবং অতিরিক্ত লোম ঝরা কমাতে আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন: একটি জরুরি টিপস: বিড়ালকে ঘন ঘন গোসল করাবেন না। অতিরিক্ত গোসল করালে বিড়ালের ত্বকের স্বাভাবিক তেল শুকিয়ে যায়, যা ত্বককে রুক্ষ করে তোলে এবং লোম ঝরা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। মাসে সর্বোচ্চ একবার বা দুইবার মাইল্ড ক্যাট শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানোই যথেষ্ট।
বিড়াল পোষার ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো আমাদের সবচেয়ে বেশি পোহাতে হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো শরীরে উকুন বা ফ্লির (Fleas) উপদ্রব। এই ছোট ছোট পরজীবীগুলো বিড়ালের পশমের নিচে লুকিয়ে অনবরত রক্ত চোষে, যার ফলে বিড়াল প্রচণ্ড চুলকানি ও অস্বস্তিতে ভোগে। সঠিক সময়ে এর প্রতিকার না করলে বিড়ালের ত্বকে ইনফেকশন হতে পারে এবং মারাত্মক রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। নিচে বিড়ালের শরীরে উকুন ও ফ্লি হওয়ার প্রধান লক্ষণ এবং তা দূর করার কার্যকরী সমাধানগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: বিড়ালের শরীরে উকুন বা ফ্লি হওয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms): আপনার বিড়ালের শরীরে এই পরজীবীগুলো বাসা বেঁধেছে কি না, তা নিচের লক্ষণগুলো দেখে সহজেই বুঝতে পারবেন: উকুন ও ফ্লি দূর করার কার্যকরী সমাধান (Solutions): বিড়ালের শরীর থেকে উকুন ও ফ্লি পুরোপুরি দূর করতে আপনাকে নিচের ধাপগুলো ধাপে ধাপে অনুসরণ করতে হবে: অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা: কুকুরের ফ্লি দূর করার কোনো ওষুধ বা ড্রপ বিড়ালের শরীরে ভুলেও ব্যবহার করবেন না। কুকুরের ওষুধে ‘পারমেথ্রিন’ (Permethrin) নামক উপাদান থাকে যা বিড়ালের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত এবং এতে বিড়ালের মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া মানুষের মাথার উকুন মারার শ্যাম্পু বা সাবান বিড়ালের শরীরে কখনোই লাগাবেন না।